প্রিয় গুণগ্রাহীগণ,
এক জীবনে এতো ভালোবাসা পাওয়া কি সম্ভব! গত সপ্তাহ থেকে প্রতিটি ক্ষুদেবার্তায়, প্রতিটি কণ্ঠস্বরে, প্রতিটি চোখের কোণে আমি যে ভালোবাসার স্পর্শ পেয়েছি, তার জবাব দেবার মতো ভাষা আজও শিখতে পারিনি। মনে হচ্ছে, ভালোবাসার ঋণে আমি আরও দরিদ্র হয়ে যাচ্ছি, আরও কাঙাল হয়ে উঠছি এর প্রতিদানে কিছু দিতে না পারার ব্যর্থতায়।
আমি এখনও শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব একটা শক্ত হয়ে উঠতে পারিনি, তাই ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার সুযোগ হয়নি। তবে হৃদয়ের গভীর থেকে বিনীত করজোড়ে ক্ষমা চাইছি সবার কাছে।
আমি কৃতজ্ঞ সৃষ্টিকর্তার প্রতি, কৃতজ্ঞ সেই মানুষদের প্রতি যারা পাশে ছিলেন, যারা খোঁজ নিয়েছেন, দোয়া করেছেন। জীবন এখন আমার কাছে আরও বড় নেয়ামত মনে হচ্ছে।
পুনশ্চঃ গত সপ্তাহে ফিনল্যান্ডের এক মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হই। মাথা, মুখমণ্ডল, হাত ও পায়ে প্রচণ্ড আঘাত পাই, সেই মুহূর্তে যেন জীবন-মৃত্যুর দোলাচলে ঝুলছিলাম। মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্যও হয়েছে, আবার দূর্ভাগ্যও। কয়েক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিলো এটাই বুঝি শেষ! আর হয়তো চোখ খুলবে না, আর হয়তো প্রিয় মুখগুলোর দেখা পাবো না… বেঁচে থাকার আশাটাও যেন হারিয়ে ফেলেছিলাম।
কিন্তু মহান আল্লাহর অসীম দয়ায়, করুণায়, আমি আবারও ফিরে এসেছি! আলহামদুলিল্লাহ! নতুন করে পাওয়া এই জীবন যেন আরও বড় এক শিক্ষা হয়ে এলো, জীবন কত ক্ষণস্থায়ী, কত অনিশ্চিত!
আজ আমি শুধু কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার রবের প্রতি, আমার আপনজনদের প্রতি, যারা ভালোবাসা আর দোয়া দিয়ে আমাকে আগলে রেখেছেন। এ জীবন নতুন করে পাওয়ার পর, হয়তো আরও গভীরভাবে বাঁচতে শিখবো।
এস্পো, ফিনল্যান্ড
ফেব্রুয়ারী ০১, ২০২৫