অকল্যান্ডের ফ্লাইটে আবার দেখা হলো এয়ার হোস্টেস মিস এমেলিয়ার সাথে। অদ্ভুত এক কাকতালীয়ভাবে এটা আমাদের তৃতীয়বারের সাক্ষাৎ। আমি সাধারণত ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী। একবার ফ্লাইটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রে মিস এমেলিয়ার সাথে প্রথম পরিচয়। সেই পরিচয়ে আবিষ্কার করি তার সুকুমার মিষ্টিভাষী রূপ, শান্ত মুখ, মুগ্ধ করা হাসি। আজ ফ্লাইটে একাধিকবার এসেছেন, কিছু চাই কিনা জানতে চেয়েছেন, অস্বাভাবিক আন্তরিকতায়।
অকল্যান্ডের মাটিতে অবতরণের পর বিমান থেকে বিদায় নেয়ার মুহূর্তে মিস এমেলিয়া একটি ছোট খাম দিয়ে গেলেন। সামান্য দ্বিধা নিয়ে খামটা স্যুট কোর্টের বুক পকেটে চালান করে ইমিগ্রেশনের দিকে এগিয়ে গেলাম। কাজ শেষ করে ট্যাক্সিতে উঠেই খামটি হাতে নিলাম।
সযত্নে খাম খুলতেই বের হলো তিন ভাঁজ করা এক টুকরো চিঠি। আমি পড়তে শুরু করলাম-
“Dear Mr. Ananta,
I must admire one thing about you. You really, really have a very magical body smell. I couldn’t resist myself to sharing this with you.”
—Yours, Amelia”
চিঠির শব্দগুলো যেন এক অদৃশ্য শ্বেতকায় গোলাপের কাঁটা হয়ে বুকে বিঁধছে। ফেলে আসা কোনো পুরনো বেদনাদায়ক অতীতের কথা মনে করিয়ে দিলো। নীলাও এভাবে বলতো, আমার গায়ের ঘ্রাণে নাকি তার প্রিয় বসন্তের ঘ্রাণ মেলে।
চিঠির শব্দগুলো সেই পুরনো ক্ষতে যেন ঘি ঢেলে দিলো, সেই দীর্ঘশ্বাসে ভরা অতীতের স্মৃতি আবার ফিরে এলো। যেনো বুকের গহীনে বেঁধে রাখা এক শিকল, যার প্রতিটি আঘাতে হৃদয় থেকে টুকরো টুকরো স্মৃতি ঝরে পড়ে, কিন্তু মুক্তি মেলে না।
বুকের ভেতর চিনচিন ব্যথায় ভারী হয়ে উঠলো, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তাড়াহুড়ো করে ব্যাগ থেকে স্টেরয়েড ইনহেলার বের করে নিঃশ্বাস নিয়ে ট্যাক্সির সিটে গা এলিয়ে দিলাম।
কায়রো, মিশর
১১ নভেম্বর ২০২৪